নতুন বছর শুরুর আগেই দার্জিলিং ও সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় শীতের দাপট ক্রমশ বাড়ছে, আর সেই সঙ্গেই তুষারপাতের সম্ভাবনা ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে পর্যটক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও। রাতের তাপমাত্রা দ্রুত নেমে যাওয়ায় পাহাড়ে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে, কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে চা বাগান, পাহাড়ি রাস্তা ও ভিউ পয়েন্টগুলি। সকালের আলো ফুটতেই মেঘের চাদরে মোড়া কাঞ্চনজঙ্ঘা, ঠান্ডা হাওয়ায় দুলে ওঠা পাইনের গাছ, আর নির্জন পাহাড়ি পথ সব মিলিয়ে দার্জিলিং যেন ধীরে ধীরে ঢুকে পড়ছে এক স্বপ্নিল শীতের জগতে। এই আবহাওয়ার মাঝেই দার্জিলিংয়ে বরফ পড়তে পারে এমন জল্পনায় যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে পর্যটন শিল্প। বহু বছর পর পাহাড়ে তুষারপাতের সম্ভাবনা শুনে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আগ্রহ তুঙ্গে, বিশেষ করে নতুন বছর উদযাপনের জন্য দার্জিলিংকে বেছে নিচ্ছেন বহু মানুষ।
বছরের শেষ লগ্নে পাহাড়ে ছুটে আসছেন অসংখ্য পর্যটক, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে হোটেল ও হোমস্টে ব্যবসায়। অধিকাংশ নামী হোটেল আগাম বুকিংয়েই প্রায় হাউসফুল, অনেক ছোট হোমস্টেও শেষ মুহূর্তে জায়গা পাওয়াই কঠিন হয়ে উঠছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই শীতের মরশুম তাঁদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। ট্যাক্সি চালক, গাইড, দোকানদার থেকে শুরু করে ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ মালিকদের মুখে দীর্ঘদিন পর হাসি ফিরেছে। শীতের রাতে ধোঁয়া ওঠা কফি কিংবা গরম মোমো হাতে পাহাড়ি শহরের আলো-আঁধারিতে ঘোরাফেরা এই অভিজ্ঞতার টানেই পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে বলে মনে করছেন পর্যটন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে ট্রাভেল ব্লগার ও ফটোগ্রাফারদের ক্যামেরা পুরোপুরি প্রস্তুত। পাহাড়ে বরফ পড়লে তার প্রথম ছবি বা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার প্রতিযোগিতা যেন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। ড্রোন শট, টাইম-ল্যাপ্স ভিডিও, ভ্লগ সব মিলিয়ে দার্জিলিং এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও চরম আলোচনায়। “Snowfall in Bengal?”এই একটি প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, ফেসবুক পোস্ট, ইনস্টাগ্রাম রিলস সব জায়গাতেই চলছে জল্পনা ও উত্তেজনা। কফির কাপ হাতে পাহাড়ের বারান্দায় দাঁড়িয়ে, কিংবা হোটেলের জানালা দিয়ে কুয়াশার ভেতর তাকিয়ে বহু মানুষ দিন গুনছেন সেই সাদা বিস্ময়ের অপেক্ষায়।
অন্যদিকে, আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকলে উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে হালকা তুষারপাত উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদিও এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না, তবুও এই সম্ভাবনাই পাহাড়প্রেমীদের মনে রোমাঞ্চ জাগাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও বলছেন, বরফ পড়ুক বা না পড়ুক এই শীত দার্জিলিংকে এক অন্য রূপে সাজিয়ে তুলেছে। প্রকৃতির এই অনিশ্চিত কিন্তু মুগ্ধকর ইঙ্গিত পাহাড়প্রেমীদের মনে নতুন স্বপ্ন জাগাচ্ছে হয়তো এই শীতেই দার্জিলিং উপহার দেবে এক অবিস্মরণীয় সাদা সকাল, যা বহুদিন মনে থেকে যাবে রাজ্যবাসীর স্মৃতিতে।



