কলকাতা:
দুর্গোৎসব মানেই আনন্দ, আলো, ঠাকুর দেখা আর একসাথে থাকার উৎসব। কিন্তু সমাজে এমন অনেক মহিলা আছেন, যাদের পুজোর দিনগুলো কাটে একাকিত্বে কেউ নেই পাশে, নেই আপনজন। তাঁদের মুখে হাসি ফোটাতেই এক মানবিক উদ্যোগ নিয়েছিল নিউ সুভাষ স্পোর্টিং ক্লাবের সহ-সম্পাদক প্রসেনজিৎ সাহা ও তাঁর বন্ধুরা।
এই বিশেষ প্রয়াসে তাঁরা খুঁজে বের করেন সেইসব মহিলাদের, যাঁরা হয় বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন, নয়তো পরিবারহীন, একা থাকেন সমাজের প্রান্তিক কোণে। পুজোর দিনগুলোতে তাঁদের নিয়ে আয়োজন করা হয় ঠাকুর দর্শন, উপহার বিতরণ ও আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মুহূর্তগুলির।
প্রসেনজিৎ সাহা বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য খুবই সাধারণ ও স্পষ্ট, যারা বয়সের কারণে বা অন্য কোনো কারণে পুজোর আনন্দে সামিল হতে পারেন না, যেমন বৃদ্ধাশ্রমে থাকা প্রবীণরা বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা, তাদের জন্যই এই উদ্যোগ। আমরা তাদের নিয়ে পুজো পরিক্রমা করাই, উপহার দিই, আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাদের সঙ্গে হাসি, ভালোবাসা আর আনন্দ ভাগ করে নিই। কারণ পুজো মানে শুধু মণ্ডপ দেখা নয়, পুজো মানে একসাথে থাকা, ভালোবাসা আর মানবতার উৎসব।”
এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন ক্লাবের আরও অনেক সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, “প্রসেনজিৎ দের এই উদ্যোগ আমাদের শিখিয়েছে – দেবী শুধু মণ্ডপে নন, তিনি আছেন মানবতার প্রতিটি ছোঁয়ায়।”

এমন এক সময়ে যখন উৎসব অনেক সময় বিলাসিতার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়, সেখানে এই উদ্যোগ মনে করিয়ে দেয় পুজো মানে ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়া, অন্যের মুখে হাসি ফোটানোই প্রকৃত দেবী বন্দনা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত মডেল তথা শিক্ষক Heena Aftab , ১০ নং ওয়ার্ডের পৌরপিতা শ্রী প্রবীর মজুমদার মহাশয়, প্রাক্তন পৌরমাতা Swapna Majumdar মহাশয়া, পানিহাটি প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক Sankar Biswas মহাশয়, পানিহাটি ওয়েলফেয়ার সমিতির সম্পাদক Tapas Saha মহাশয়, সভাপতি Barun Saha মহাশয়, সদস্য Sankar Sarkar মহাশয়, বিশিষ্ট সমাজসেবী Debanjan Banerjee , Sushanta Debnath , এবং পানিহাটি প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির সদস্য অশোক ।
অনুষ্ঠানের সঙ্গীত পরিবেশন করেন পরিচিত কণ্ঠ Deblina Sen, যিনি তাঁর মধুর কণ্ঠে সকলের মন জয় করেন।



