গত কয়েকদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে প্রতীক উর রহমানকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে। বিরোধীদল Communist Party of India (Marxist) (CPIM) থেকে বেরিয়ে কি তিনি All India Trinamool Congress-তে যোগদান করবেন? আর যদি তাই হয়, তাহলে কি তাঁর হাতে জোড়াফুলের প্রতীক হাত বদল করবে? এই প্রশ্নই এখন রাজ্যের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
প্রতীক উর রহমান দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসেছেন প্রথমে SFI-তে (ছাত্র কমিউনিস্ট সংগঠন) নেতৃত্ব দিয়েছেন, পরে CPIM-এর রাজ্য স্তরের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার দরিদ্র মুসলিম পটভূমির ছেলে হিসেবে তিনি রাজনীতির মাঠে উঠে আসেন এবং সময়ের সাথে সাথে তরুণ নেতৃত্বের পরিচয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
সিপিএমের রাজ্য কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে প্রতীক উর রহমানের ইস্যুটি আলোচ্যসূচিতে ওঠেনি কিন্তু দলের অন্তরঙ্গ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে একটি চিঠি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর তাঁর দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে। এতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে, তিনি কি দলের নীতি বা নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তুষ্ট?
এরপরই টিভি ও সংবাদ মাধ্যমে শুরু হয় জল্পনা তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে কি না, এবং কি তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেবেন?
রাজ্যের বিরোধীদলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি দাবি করেছেন, আজই প্রতীক উর তৃণমূলে যোগদান করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে হাতে। তবে প্রতীক উর নিজেই স্পষ্ট করে বলেছেন তিনি এখন “দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন” এবং “যার হাত যে বাড়াবে সেই হাত ধরবেন।” তাঁরা এখনও নিশ্চিত নন যে কোন দলকে বেছে নেবেন।
অর্থাৎ, যদিও যোগদানের ইঙ্গিত আছে, ক্ষুদ্র একটি হতাশা বা রাজনৈতিক পরামর্শের ভিত্তিতে তিনি এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেননি। তাঁর ভাষায়, “দরজাটা খুলে দেখি কে আছে।”
CPIM-এর অন্দরেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। দলের কিছু নেতার মতে, প্রতীক উরের মন্তব্য ও আচরণ দলের নীতির বিরুদ্ধে। কেউ বলেন তার আচরণ দলের ক্ষতি করছে বলেও শোনা যায়। তবুও দল এখনই তাঁকে বহিষ্কার করার পথে হাঁটছে না, বরং প্রতীক উরের সিদ্ধান্তের ওপরই ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটছে যখন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ সামনে। রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলো শক্তি বাড়াতে ব্যস্ত, বিশেষত তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি-র মতো বড় দলগুলো। ক্লান্ত রাজনৈতিক কর্মীদের টানাটানি ও দলবদল রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। যেমন, একইভাবে অনেক বিজেপি বিধায়ক বিভিন্ন সময় তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন যেটা ইতোমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে প্রভাব ফেলেছে।
এই মুহূর্তে প্রতীক উর রহমানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ নিশ্চিত নয়। তিনি নিজেই প্রস্তাবিত দলবদল নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় মুখ খোলেননি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই তৃণমূলে যোগদানের খবর শুধুই রাজনৈতিক জল্পনা পর্যায়ে আছে। রাজনীতির এই ফলকের ফলে ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন দোলাচল আসতে পারে কিন্তু এখন তা কেবল সম্ভাবনার স্তরেই রয়ে গেছে।



