সাবেকিয়ানায় সংস্কৃতির জয়গান

660 বিনোদন 17 hours ago

ঋদ্ধি ভট্টাচার্য, কলকাতা:- নতুন বছরের সূচনায় এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহে উন্মোচিত হল বিশেষ বার্ষিক ক্যালেন্ডার, যার পরেই আয়োজিত হলো ঐতিহ্যবাহী ফটোশুট “সাবেকিয়ানা”। বাঙালিয়ানা ফটোগ্রাফি কর্ণধার অনিক ত্রিবেদী ও দীপিকা বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এমন একটি নজর কারা অনুষ্ঠান। বাঙালির শিকড় ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শহরের বিশিষ্ট শিল্পী, আলোকচিত্রী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা। নতুন ক্যালেন্ডারটির প্রতিটি পাতায় ফুটে উঠেছে বাংলার লোকসংস্কৃতি রূপ। আয়োজকদের বক্তব্য,“এই ক্যালেন্ডার শুধু সময় জানানোর মাধ্যম নয়, এটি বাঙালির ঐতিহ্যের দলিল।”

ক্যালেন্ডার উন্মোচনের পর শুরু হয় “সাবেকিয়ানা” ফটোশুট। লাল-সাদা শাড়ি, অলতা রাঙা পা, শাঁখা-পলা ও ধুতি-পাঞ্জাবিতে সজ্জিত মডেলরা তুলে ধরেন এক অন্য সময়ের আবহ। আলো-ছায়ার খেলায় ক্যামেরাবন্দি হয় বাংলার হারিয়ে যাওয়া রীতিনীতির সৌন্দর্য। অনুষ্ঠানটি যেন মনে করিয়ে দিল আধুনিকতার ভিড়ে শিকড়কে ভুলে গেলে চলবে না।

“সাবেকিয়ানা” আর কোনো নির্দিষ্ট দেশের গণ্ডিতে আবদ্ধ নেই। আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগ দেশ, কাল, গোষ্ঠী, জাতি ও মহাদেশের সীমারেখা অতিক্রম করে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ঐতিহ্য ও প্রাচীনতার সুরকে এক মঞ্চে তুলে ধরার প্রয়াস।

তাদের দাবি, বিভিন্ন সংস্কৃতি, পোশাক, আচার ও শিল্পভাবনার মধ্য দিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তের সাবেকিয়ানাকে একত্রে উপস্থাপন করার সচেতন চেষ্টা করা হয়েছে। বৈচিত্র্যের ভেতর দিয়ে ঐক্যের বার্তাই এখানে মূল প্রতিপাদ্য।
আয়োজকরা জানান, “সাবেকিয়ানা” কেবল একটি থিম নয়, বরং এটি বিশ্বসংস্কৃতির প্রতি সম্মান ও সংযোগের এক সৃজনশীল মাধ্যম। আত্মপরিচয়ের পুনরাবিষ্কার।

মডেলদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেয়া পাল, প্রিয়াঙ্কা মন্ডল, সুস্মিতা দাস, পিঙ্কি দাস, আকাশ মিস্ত্রি, রাহুল কেশ, শ্রাবনী কুন্ডু শ্রেয়া মিত্র,অনামিকা দাস, চৈতালি মুখার্জী, সোমা বেরা, কৃষিতা পাল, বুলবুল গুহ রায়, কেয়া চ্যাটার্জী, শুভদীপ দাশশর্মা, তন্দ্রিম মাঝি, মল্লিকা মন্ডল, প্রথমা মাইতি,পিয়ুষ বিশ্বাস ও রিমা তপস্বী। প্রসাধনি শিল্পিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দেবী অধিকারী, অপর্ণা মজুমদার, অন্তরা বোস, শ্রেয়া দেবনাথ, আনিশা খাতুন, রমা মালি, অন্তরা বড়াল ও মল্লিকা মন্ডল।সব মিলিয়ে, নতুন বছরের প্রারম্ভে আয়োজিত এই ক্যালেন্ডার উন্মোচন ও “সাবেকিয়ানা” ফটোশুট প্রমাণ করল—ঐতিহ্যই বিশ্বের শক্তি। সংস্কৃতির শিকড়কে আঁকড়ে ধরেই এগিয়ে চলার বার্তা ছড়িয়ে দিল এই অনন্য আয়োজন।

Latest Update