মঙ্গলকোট, পূর্ব বর্ধমান:
পল্লিকবি কুমুদরঞ্জন মল্লিক এর জন্মদিন উপলক্ষে পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট থানার কোগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী কুমুদ সাহিত্য মেলা। মহাসমারোহে পালিত এই সাহিত্য মেলায় সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সম্মাননা প্রদান করা হয় এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশে দিনটি উদযাপিত হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাটোয়া মহকুমা পুলিশ অফিসার কাশীনাথ মিস্ত্রি, মঙ্গলকোট থানার আইসি লাল্টু ঘোষ, শ্রীখণ্ড পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান দীপক মজুমদারসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। তাঁদের উপস্থিতিতে সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই মিলনমেলা আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
এবারের কুমুদ সাহিত্য মেলায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য একাধিক গুণীজনকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয়। উচ্চশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. পার্থ কর্মকারকে দেওয়া হয় “কুমুদ রত্ন” সম্মান। পদ্মশ্রী প্রাপ্ত লোকসংগীত শিল্পী রতন কাহার–কে প্রদান করা হয় “লোচনদাস রত্ন”।
এছাড়াও সাংবাদিক প্রণব দেবনাথকে “কাটোয়া মহকুমা রত্ন”, অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক সমীর মজুমদারকে “উত্তর ২৪ পরগণা জেলা রত্ন”, প্রকৃতিরক্ষী সমরেন্দু চক্রবর্তীকে “পরিবেশ রত্ন”, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চিকিৎসক ড. অভয় সামন্তকে “মেমারি রত্ন”, গবেষক সম্রাট কুমার পালকে “ভাতার রত্ন”, সাংবাদিক দ্বারকানাথ দাসকে “কালনা মহকুমা রত্ন” এবং বিশিষ্ট লেখক অলক কুমার দত্তকে “সমীর ভট্টাচার্য রত্ন” সম্মানে সম্মানিত করা হয়।
এর পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পশুপ্রেমী টুম্পা রায়কে “মমতা মণ্ডল স্মৃতি পুরস্কার” প্রদান করে আয়োজক কমিটি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোল্লা শফিকুল ইসলাম ও বিশ্ববন্ধু পাল। উপস্থিত অতিথি ও দর্শকদের অংশগ্রহণে সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং সামাজিক অবদানের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে ওঠে এই আয়োজন।
কুমুদ সাহিত্য মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা জসিমউদ্দিন জানান, পল্লিকবি কুমুদরঞ্জন মল্লিকের ১৪৩তম জন্মদিন উপলক্ষে এই সাহিত্য মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “পল্লিকবির স্মৃতিকে সম্মান জানাতে এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণীজনদের স্বীকৃতি দিতেই এ বছর কুমুদ সাহিত্য মেলায় ১১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে সংবর্ধনা জানানো হয়েছে।”
স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ শুধু কবির স্মৃতিকে জীবন্ত রাখে না, একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি আরও অনুপ্রাণিত করে।



