উত্তরপ্রদেশে ১৫৮ জন যাত্রী নিয়ে চলন্ত একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে হঠাৎ আগুন লেগে যাওয়ার ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে যাত্রীদের মধ্যে এবং দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। শান্তভাবে এগিয়ে চলা ট্রেনটি আচমকাই ধোঁয়ায় ভরে ওঠায় যাত্রীরা প্রথমে বুঝে উঠতে পারেননি কী ঘটছে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা একটি কোচে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে আতঙ্কে চিৎকার, হুড়োহুড়ি এবং জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে সাহায্যের আকুতি সব মিলিয়ে ট্রেনের ভেতরে তৈরি হয় বিভীষিকাময় পরিস্থিতি। শিশু, মহিলা ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে জরুরি দরজা খোলার চেষ্টা করেন। খবর পেয়েই রেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত ট্রেনটি নিরাপদ স্থানে থামানোর সিদ্ধান্ত নেয় এবং সংশ্লিষ্ট দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকারী দলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
দমকল কর্মীরা অতি দ্রুততার সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন, ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে। রেল পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাত্রীদের নিরাপদে কোচ থেকে নামিয়ে আনে। কেউ কেউ ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার পর যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও, সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়ায় প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি—এটাই এখন পর্যন্ত স্বস্তির বিষয় বলে জানাচ্ছেন রেল আধিকারিকরা। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ কী, শর্ট সার্কিট নাকি যান্ত্রিক ত্রুটি—তা জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনার জেরে ওই রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় এবং বেশ কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে চলে। রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের কাছে অসুবিধার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার আশ্বাস দিয়েছে। চলন্ত ট্রেনে আগুন লাগার এই ঘটনা ফের একবার যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—যাত্রাপথে কতটা সুরক্ষিত তাঁরা? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের দিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ, কারণ এই ঘটনার উত্তরেই নির্ভর করছে রেলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নাগরিকদের আস্থা



