Bong insider

ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত উত্তর ভারত

2.76K আবহাওয়া 2 weeks ago

দিল্লি–NCR সহ উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে ঘন কুয়াশার দাপটে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোররাত থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে রাজধানী অঞ্চল, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান ও বিহারের একাধিক এলাকা। দৃশ্যমানতা নেমে এসেছে কয়েক মিটারে, ফলে রাস্তাঘাটে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সকাল ও গভীর রাতে জাতীয় সড়ক ও এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়েছে, কোথাও কোথাও দীর্ঘ যানজটেরও সৃষ্টি হয়েছে। কুয়াশার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিমান পরিষেবায়। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ উত্তর ভারতের একাধিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ২০০টিরও বেশি বিমান নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ছেড়েছে এবং খারাপ দৃশ্যমানতার কারণে বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করতেও বাধ্য হয়েছে বিমান সংস্থাগুলি। যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে, অনেকের ভ্রমণ পরিকল্পনাও ভেস্তে গেছে। শুধু আকাশপথই নয়, রেল পরিষেবাতেও কুয়াশার ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উত্তর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ রুটে চলাচলকারী বহু দূরপাল্লার ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কয়েক ঘণ্টা দেরিতে চলছে। শীতকালীন কুয়াশার কারণে রেল কর্তৃপক্ষ ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে বাধ্য হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। পাশাপাশি, বাস পরিষেবাও স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়েছে, অনেক রাজ্যে রাতের বাস চলাচল সীমিত করা হয়েছে নিরাপত্তার স্বার্থে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে গাড়ি চালানোর সময় হেডলাইট ও ফগ লাইট ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন ছাড়া রাতের যাত্রা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন উত্তর ভারতের এই কুয়াশার পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ঠান্ডা হাওয়া ও নিম্ন তাপমাত্রার কারণে কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে স্কুল-কলেজের সময়সূচি পরিবর্তন, কিছু এলাকায় ছুটি ঘোষণা কিংবা অফিস টাইমে পরিবর্তনের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও এই পরিস্থিতিতে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের ভোরের কুয়াশায় বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, ঘন কুয়াশা উত্তর ভারতের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে কার্যত স্তব্ধ করে দিয়েছে। পরিবহন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজকর্ম—সব ক্ষেত্রেই পড়েছে এর প্রভাব। প্রশাসন ও পরিবহন সংস্থাগুলি পরিস্থিতি মোকাবিলায় একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও, আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কিছুটা হলেও অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Latest Update